অতিরিক্ত ড্রিপ্রেশনে করণীয় কী?

অতিরিক্ত ডিপ্রেশন কিন্তু ভয়ানক এক জিনিস! ডিপ্রেশন একজনকে মৃত্যুর কোলে ঢেলে দিতে পারে দুইভাবে!

এক. সুইসাইড বা আত্মহত্যা করতে প্ররোচনা যোগায়

দুই. মারাত্মক অসুস্থতা সৃষ্টি করতে পারে, অনেকসময় কোমায় নিয়ে যায় মানুষকে!

সাথে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, অনিদ্রা, ব্লাড প্রেশার, ক্যানসারসহ বহু জটিল রোগ তো দেখা দিচ্ছেই!

আবার এই ডিপ্রেশন এ গিয়ে অনেকে আবার প্রচুর পরিমাণে ফ্রাস্ট্রেটেড হয়ে দেশ ও সমাজে বিশাল বিশৃঙ্খলার সূত্রপাত করছে। সিরিয়াল কিলিং, ধর্ষণ, নেশা সহ বেশিরভাগ অপকর্মেরই সূত্রপাত এই ডিপ্রেশন থেকে৷

কভিড-১৯ যেমন সংক্রামক ও দ্রুত ছড়িয়েছে তেমনি দ্রুত এই ডিপ্রেশন এরসূত্রপাত। প্রেমে ব্যার্থতা, পড়ালেখায় গ্যাপ, নিজের অনিশ্চিত ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা থেকে ডিপ্রেশন হয়। আর লকডাউনে, ছাত্র-ছাত্রীরা বাসায় থেকে এই ডিপ্রেশনে বেশি আক্রান্ত হয়েছে! তাই এই ভয়ানক ব্যাধি দূর করার ঔষধ এখন সকলের প্রয়োজন।

ডিপ্রেশনের লক্ষণ:

  • *কখনো খুশি কখনো উদাসী। সকালে ভালো বিকেলে খারাপ। আজ বেশ আনন্দে আছে কাল মানসিক যন্ত্রণায় গুমরে মরছে।
  • *জীবনটাকে ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারে না। কখনো ভাবে এই জীবন জীবন নয়। কখনো ভাবে এইতো বেশ আছি, ভালো আছি।
  • *জীবনের প্রতি ঘৃণা বা উদাসীনতা। মনে হয় অনেক কিছু পাওয়ার ছিল, করার ছিল, হলো না। অতএব এই জীবনটা অর্থহীন। এটাকে বয়ে নিয়ে যেতে হবে কিন্তু আর কত দিন?
  • *কিছু কেউ বলুক, যদি ভালো বলে না তো ঠিক আছে কিন্তু বিরূপ সমালোচনা করলে টেম্পার লুস করে দেয় বা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে।
  • *কেমিক্যাল চেঞ্জ। শরীরে নানা বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়া ও অহেতুক শরীরকে কষ্ট দেওয়া।
  • *মানসিক ফোবিয়া।
  • *অন্ধকারকে ভয়, কোনো জন্তু, পোকা, পানি, আগুনের ভয় বা অজানা আতঙ্ক। বারবার হাত-পা ধোয়া, গোসল করা, ঘ্যান ঘ্যান করা ইত্যাদি। আবার অহেতুক চিন্তা ও উত্তেজনা, একটুতেই ঘাবড়ে যাওয়া, একটুতেই ভেঙে পড়া।
  • *কাজ করার ইচ্ছা হয় না। উৎসাহের অভাবে অল্প বয়সেই ক্লান্তি অনুভব করা। কাজ করার ক্ষমতা আছে কিন্তু ইচ্ছার অভাবে কিছুই করতে চায় না। অলসতা যেন গ্রাস করে ফেলছে। এমনকি খেলাধুলা বা পড়াশোনার ক্ষেত্রেও উৎসাহের অভাব হলে বুঝতে হবে ডিপ্রেশন হয়ে আছে।
  • *গোসল করা, কাপড় ধোয়া, খাবার ইচ্ছে ত্যাগ। গোসল করতে চায় না, খেতেও ইচ্ছুক নয় আবার ময়লা পোশাকেই যেন থাকতে চায়, এমতাবস্থায় বুঝতে হবে ডিপ্রেশনে ভুগছে।
  • *ঘুমানো। কখনো কম ঘুমায়, কখনো সব সময় শুয়ে থাকতে ভালোবাসে।
  • *হরমোন চেঞ্জ। হরমোনের পরিবর্তন হতে থাকলে ডিপ্রেশন আসে। বয়ঃসন্ধিকালে এই ধরনের অবস্থা লক্ষ করা যায়।
  • *নানা চাহিদা। চাহিদার শেষ নেই। একটা পেলে আরেকটা চায়। কখনো একটাতে বা একটুতে সন্তুষ্ট নয়। বারবার বিভিন্ন ধরনের আবদার বা বায়না করতে থাকে।
  • *ভালোবাসা বা প্রেম। ভালোবাসায় ব্যর্থতা আসলে, প্রেম সফল না-হলেই ডিপ্রেশন হয়ে যাওয়া। ফলে নেশা করে বা অনৈতিক ও অপরাধমূলক কাজ করতে থাকে।
  • *ক্রোধ। যে ধরনের বিচার বা চিন্তা চলবে তা যদি নেতিবাচক বা ব্যর্থ হয় তাহলে ক্রোধ জন্ম নেয়। এড্রোনিল গ্রন্থি, ক্যাপিলারি টিউব, নিউরোনসের যেমন ক্ষতি হতে পারে, তেমনি ভুলও হতে পারে। যা পরবর্তী ক্ষেত্রে ডিপ্রেসড হতে সাহায্য করে। ক্রোধের বশে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটে যেতে পারে। অনেকে বলেন, ক্রোধ ছাড়া চলে না। এটা ভুল। ক্রোধ শুধু ক্রোধ নয়-এ যেমন নিজেকে জ্বালায়, অন্যকেও জ্বালায়। ফলে, ক্রোধ হলে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। ডিপ্রেশনের শিকার হতে হয়।
  • *ইমোশন। ইমোশনাল হওয়া ভালো কিন্তু অতি ইমোশনাল হওয়া ভালো নয়। এ হলো ডিপ্রেশনের লক্ষণ। ইমোশনাল ব্যক্তি বারবার চেষ্টা করে অন্যকে আকর্ষিত করতে। যখন পারে না বা নিজেকে অন্যের কাছে তুলে ধরার ক্ষেত্রে যখন ব্যর্থ হয়, তখন ডিপ্রেশন আক্রান্ত হয়ে যায়।
  • *আত্মহত্যা। আত্মহত্যা হলো মানসিক ব্যাধি যা ডিপ্রেশন থেকে জন্ম নেয়। ডিপ্রেশনের শেষ অবস্থায় পৌঁছালেই আত্মহত্যা করতে প্ররোচিত হয়।

ডিপ্রেশন যেকোনো বয়সে হতে পারে। ছেলেমেয়ে, ছাত্রছাত্রী, শিশু থেকে বয়স্ক সবাই ডিপ্রেশনের শিকার হতে পারে।

তো এই ডিপ্রেশন থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় বা ঔষধ কি? চলুন জেনে নিই৷

  1. নিজেকে কখনোই একা মনে করবেন না! আর একাকিত্ব কাটাতে বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় কাটান।
  2. বাবা মার সাথে দিনে টুকটাক কথা বলা চালিয়ে যান৷ এতে আপনার পাশাপাশি ওনাদেরও মন ভাল থাকবে।
  3. কিছু জিনিস যেমন কতিপয় ব্লগ বা সিরিয়াল এর বিষয়বস্তু আমাদেরকে অনেক ভাবায়, সেগুলো থেকে দূরে থাকা ভাল।
  4. বাহিরে ঘুরতে যাওয়া বা বেড়াতে যাওয়া ডিপ্রেশন কাটানোর অন্যতম এক মাধ্যম।
  5. ফেসবুক বা এধরণের সোশাল মিডিয়া কখনোই ডিপ্রেশন কাটানোর হাতিয়ার নয়, হয়তো সাময়িক কাটতে পারে কিন্তু পরে তা দ্বিগুণ বাড়াবে৷ তাই বিনোদন মাধ্যম হিসেবে এগুলো এড়িয়ে চলাই শ্রেয়৷

এবার কিছু খুবই কার্যকর টিপস বলি, যেগুলো আমার দেখা! নিজের বড় ভাইয়ের উপর পর্যবেক্ষণ করা!

তখন তার ভার্সিটি এক্সাম শেষ, চান্স নেই কোথাও। প্রচুর পরিমাণে ডিপ্রেশন এ ছিল৷ অবশেষে আমাদের এক আত্মীয় তাকে এ অবস্থা থেকে ফিরায়! আপনি যদি ধার্মিক হন বা বিশ্বাসী হন তাহলে এটা কার্যকর।

যখন আপনি সৃষ্টিকর্তার উপর বিশ্বাসী তখন কোন না পাওয়া বা অনিশ্চয়তা নিয়ে ভাবনা থাকবে না৷ আপনার সর্বদা মনে হবে তিনি ভালটাই করছেন।

মুসলমান হলে, প্রতিওয়াক্ত নামাজ মসজিদে গিয়ে পড়ুন, ভাল লাগবে৷৷

বিকেলে আসরের পর দাওয়াতীদের সাথে যোগ দিয়ে কিছু সময় কাটাতে পারেন।

অনেকে ভালভাবে নেয় না বা পছন্দ করে না অবশ্য অনেক কারণও রয়েছে। তবুও নতুন জায়গায় ছেলেদের দলবেঁধে তাবলিকে যাওয়া কিন্তু ডিপ্রেশন কাটানোর চরম একটি মাধ্যম। যেটা আমার ভাই এর উপর সবচেয়ে কার্যকর ছিল৷ তিনি আজ ডিপ্রেশন মুক্ত সাথে টেনশন মুক্ত কারণ হেড়ে যাননি, স্কলারশিপ নিয়ে বাহিরে আছেন।

সর্বোপরি আপনাকে বুঝতে হবে ডিপ্রেশন এ আছেন এবং এথেকে বাহির হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। ধন্যবাদ।


 


%d bloggers like this: