বিজ্ঞানী এ.পি.জে আব্দুল কালামকে মিসাইলম্যান বলা হয় কেন?

‘আমার মৃত্যুতে ছুটি ঘোষণা করো না, আমায় যদি ভালোবাসো, মন দিয়ে কাজ করো সেদিন।’ সদা কর্ম ও জ্ঞান সাধনায় নিবেদিত এ পি জে আবদুল কালাম মৃত্যুর বহু বছর আগে তরুণদের এক সমাবেশে এ রকমই উচ্চারণ করেছিলেন। তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি ছিলেন, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরমাণুবিজ্ঞানী ছিলেন। সফল ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতা হিসেবে তাঁর নামের আগে যুক্ত হয়েছিল ‘মিসাইল আবদুল কালাম’।

১৯৬০ সালে পাস করে বেরোবার পর তিনি ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সংস্থার অ্যারোনটিক্যাল ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠানে একজন বিজ্ঞানী হিসেবে যোগ দেন। প্রথমে তিনি একটি হোভারক্র্যাফট ডিজাইন করেছিলেন, কিন্তু নিজেই সন্তুষ্ট হতে পারেননি। পরে প্রখ্যাত স্পেস সায়েন্টিস্ট বিক্রম সারাভাইয়ের ডিপার্টমেন্টে তাঁকে ট্রান্সফার করা হয়। ১৯৬৯ সালে তিনি ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশনে (আইএসআরও), ভারতের প্রথম স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিক্যাল (এসএলভি-৩)-এর প্রজেক্ট ডিরেক্টর হিসেবে স্থানান্তরিত হন। সেখান থেকে ভারতের প্রথম স্যাটেলাইট ‘রোহিণী” সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়। ১৯৭০ সালে তিনি ‘প্রজেক্ট ডেভিল’ ও ‘প্রজেক্ট ভেলিয়ান্ট’ নামে মিসাইল উদ্ভাবনের এই প্রজেক্ট দুটি পরিচালনা করেন। এতে অর্থলগ্নি করতে ইউনিয়ন ক্যাবিনেট রাজি হয়নি। তবুও ইন্দিরা গান্ধী নিজে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য বরাদ্দ বিশেষ তহবিল থেকে গোপনে এই প্রজেক্টে টাকা দেন।
এই মিসাইল প্রোগ্রাম সফল হওয়ায় ১৯৮০ সালের মধ্যে আবদুল কালাম অনেক খ্যাতি ও পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৮০ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘অ্যাডভান্সড মিসাইল প্রোগ্রাম প্রজেক্ট’-এর পরিচালকের দায়িত্ব দেন। এ সময় তখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর ভেঙ্কটরমন আরও একধাপ এগিয়ে গিয়ে বলেন, ‘এভাবে একটার পর আর একটা মিসাইল না বানিয়ে তুমি একইসঙ্গে অনেকগুলো মিসাইল বানানোর কাজ শুরু করো।’ তিনি নিজেই একটু তদবির করে ক্যাবিনেট থেকে ৩ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন রুপি অনুমোদন করিয়ে আনেন এবং এটির নাম দেন ইন্টিগ্রেটেড গাইডেড মিসাইল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (আইজিএমডিপি)। তিনি কালামকে প্রতিষ্ঠানটির চিফ এক্সিকিউটিভ নিযুক্ত করেন। কালাম এই প্রজেক্টের মাধ্যমে অনেকগুলো মিসাইল বানান, যার মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য হলো মধ্যম রেঞ্জের ব্যালিস্টিক মিসাইল ‘অগ্নি’ (১৯৮৮) ও সারফেস টু সারফেস মিসাইল ‘পৃথিবী’ (১৯৮৯)।

👉 ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও মহাকাশযানবাহী রকেট উন্নয়নের কাজে তার অবদানের জন্য তাকে ‘ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র মানব’ বা ‘মিসাইল ম্যান অফ ইন্ডিয়া’ বলা হয়।

জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই প্রখ্যাত বিজ্ঞানী কাজ করে গেছেন দেশ ও মানুষের কল্যাণে। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন শেষে আর পাঁচজনের মতো অবসরে না গিয়ে তিনি জ্ঞানালোকে নবীন প্রজন্মকে দীক্ষিত করতে ঘুরেছেন ভারতের বিভিন্ন বিদ্যাপীঠে। এসেছেন বাংলাদেশেও। তাঁর লেখা বইগুলোতেও আছে স্বপ্ন ও জীবনকে জয়ী করার কথা।

%d bloggers like this: