অনলাইন টিউটর হয়ে কিভাবে আয় করতে পারবেন ?

অনলাইন টিউটর হয়ে আয় করা এখন অনেক সহজ কাজ ৷ যে কেউ চাইলে অনলাইন টিউটর হয়ে আয় করতে পারবেন ৷ আপনি তিন ভাবে অনলাইন টিউটর হতে পারবেন ৷ প্রথমত আপনি ইউটিউবে একটা চ্যানেল খুলে আপনার টিউটোরিয়াল গুলি বিতরন করতে পারেন ৷ এখানে আপনি আপনার টিউটোরিয়াল আপলোড করলে গুগলের অ্যাডসেন্স থেকে আয় করতে পারবেন ৷

দ্বিতীয়টা হচ্ছে আপনি একটা ওয়েবসাইট খুলে সেখানে টিউটোরিয়াল গুলি আপলোড করতে পারেন ৷ সাবস্ক্রিপসন ভিত্তিতে ছাত্রদের প্রশিক্ষণ দিতে পারেন ৷ তবে এটার জন্য আপনাকে একটা ওয়েবসাইট খুলতে হবে ৷ এ ধরনের একটা ওয়েবসাইট খুলতে আপনাকে খরচ করতে হবে ৫০০০-১০০০০ টাকা ৷

আবার আপনি চাইলে বিভিন্ন টিউটোরিয়াল বিক্রি কারী ওয়েবসাইটে একাউন্ট ওপেন করেও টিউটোরিয়াল বিক্রি করতে পারেন ৷

তবে সেসব ওয়েবসাইটে টিউটোরিয়াল বিক্রি করলে তার লাভের একটা আংশ আপনাকে ওয়েবসাইট মালিকদের দিয়ে দিতে হবে ৷

কোন বিষয়টা প্রশিক্ষণ দিবেন ?

প্রথমে আপনার দেখতে হবে আপনি কোন বিষয়টা সবচেয়ে ভালো পারেন অর্থাৎ যে বিষয়ে আপনার ভালো অভিজ্ঞতা রয়েছে সেই বিষয়টা নিয়ে আপনি অনলাইনে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করতে পারেন। যেমন ধরুণ আপনি যদি গ্রাফিক্স ডিজাইন খুব ভালো পারেন , কম্পিউটারে বিভিন্ন জিনিস ডিজাইন করা খুব ভালো পারেন বা কম্পিউটারে যে ডিজাইন সফটওয়্যার গুলো রয়েছে সেগুলো সম্পর্কে যদি আপনার ভাল ধারনা থাকে তাহলে আপনি অনলাইনে গ্রাফিক্স ডিজাইন ক্লাস শুরু করতে পারেন।

আবার যদি আপনি কম্পিউটার প্রোগ্রামিং সম্পর্কে খুব ভালো জানেন তাহলে আপনি কম্পিউটার প্রোগ্রামিং নিয়ে ক্লাসগুলো শুরু করতে পারে না সেখানে বিভিন্ন মানুষকে আপনি কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর বিভিন্ন সফটওয়্যার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিতে পারে। অর্থাৎ বাস্তবে যেমন আমরা একটা বিষয় সম্পর্কে ভালো জানলেই সেই বিষয়টা নিয়ে ট্রেনিং দিতে পারি তেমনি অনলাইনেও যে বিষয়টা আপনি সবচেয়ে ভালো জানবে সেটা নিয়ে ট্রেনিং শুরু করতে পারেন। তবে একটা বিষয় খুব খেয়াল রাখবেন কারণ হচ্ছে অনলাইনে প্রচুর পরিমাণে কম্পিটিটর রয়েছে । আপনি যে বিষয়টা নিয়েই অনলাইনে ট্রেনিং দিবেন সেটার কিন্তু অনেক কম্পিটিটর আপনার অনলাইনে থাকবে সুতরাং অবশ্যই আপনাকে যে বিষয়টা নিয়ে ট্রেনিং দিবেন সেটা যেন একদম ফুল আপনি জানেন এবং খুব ভালো করে লিখলে সেটা সম্পর্কে জ্ঞান থাকে সেই বিষয়টা নিশ্চিত করে নিবেন।

কিভাবে প্রশিক্ষণ দিবেন ?

অনলাইনে প্রশিক্ষণ দেয়ার কয়েকটি মাধ্যম রয়েছে যেমন আপনি চাইলে তাদেরকে face-to-face প্রশিক্ষণ দিতে পারেন যেটাকে লাইভ প্রশিক্ষণ বলা হয় অথবা আপনি একটা ওয়েবসাইট খুলে সেখানে আপনার প্রশিক্ষণ কনটেন্ট গুলো রয়েছে সেগুলো আপলোড দিয়ে দিতে পারেন অথবা আপনি বিভিন্ন ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে আপনার প্রশিক্ষণের কনটেন্ট আপলোড দিয়ে সেখান থেকে আপনি আয় করতে পারবেন তারা আপনার এই কনটেন্ট ডিস্ট্রিবিউশন করবে আপনি অনলাইনে প্রশিক্ষণ দিয়ে আয় করতে পারবেন।

তবে এখনকার সময়ের সবচেয়ে ভালো হচ্ছে আপনি অনলাইনে লাইভ প্রশিক্ষণ দিতে পারেন । যেমন জুম অ্যাপ রয়েছে অথবা আপনার গুগোল মিট রয়েছে এটা হচ্ছে খুব ভালো লাইভ প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্যে। এখানে লাইভ অনলাইনে প্রশিক্ষণ দেওয়া জায়। এসব এপ্সে  আপনি চাইলে কয়েকজনকে একত্রিত করে একসাথে প্রশিক্ষণ টা দিতে পারবেন ।

জুম অ্যাপ এ যদিও একটু সমস্যা রয়েছে তারপরও আপনি না চাইলে গুগোল মিট ব্যবহার করতে পারেন এটা খুবই সহজ এবং একদম ফ্রি আপনি এটাতে অডিও এবং ভিডিও কল করে সবার সাথে একসাথে কানেক্টেড হতে পারবেন।

গুগোল মিটে আপনাকে প্রশিক্ষণ দিতে হলে প্রথমে আপনি গুগল মিটে গিয়ে একটা ট্রেনিং সেশন ওপেন করবেন এবং সেখান থেকে আপনাকে একটা কোড দেওয়া হবে আপনি আপনার সমস্ত  প্রশিক্ষণার্থীদের কে ওই কোডটা যদি পাঠিয়ে দেন তাহলে তারা সেটাতে ক্লিক করলেই আপনার মিটিংয়ের জয়েন করতে পারবে এবং সেখানে আপনি আপনার এই প্রশিক্ষণ দিতে পারবেন খুব সহজেই আপনি চাইলে নিজের ছবি ব্যবহার করে সেখানে সবার সাথে লাইভ করতে পারেন অথবা চাইলে শুধুমাত্র অডিও দিয়ে লাইভ করতে পারবেন।

প্রশিক্ষণের শুরুতে অবশ্যই আপনি আপনার প্রশিক্ষণার্থী জারা আছে সবার কাছ থেকে প্রশিক্ষণের ফি নিয়ে নেবেন এরপর আছে তাদেরকে লাইভের কোড প্রদান করবেন।

কত টাকা ফি নিবেন ?

প্রশিক্ষণ ফি টা আসলে নির্ভর করে আপনি কিভাবে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন । আপনি ধরুন  একটা ওয়েবসাইট খুলে সেখানে আপনার কনটেন্ট গুলো আপলোড করে দেন সেক্ষেত্রে কিন্তু আপনি খুব কম টাকা নিলও চলবে । কারন হচ্ছে আপনাকে লাইভ থাকতে হবে না । আপনার প্রশিক্ষণার্থীরা যেকোনো সময় আপনার এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে সেখান থেকে তারা ভিডিওগুলো দেখে প্রশিক্ষণ নিতে পারবে। আর এই ভিডিওগুলো তৈরি করতে কিন্তু আপনার একই সময় খরচ হবে । দ্বিতীয়বার কোন সময় খরচ এর প্রয়োজন হবে না সেজন্য এখানে আপনি একটু কম ফি হলেও এটা দিয়ে প্রশিক্ষণ দিতে পারবেন।

কিন্তু যদি আপনি লাইভ ক্লাস প্রচার করেন সেক্ষেত্রে আপনার ফি টা একটু বেশি নিতে হবে । কারণ হচ্ছে আপনি ফিজিক্যালি সময় দিতে হবে একটা সময় বের করে সবাইকে একসাথে সময় দিতে হবে । এজন্য এখানে আপনার ফিটা একটু বেশি ধরে নিবেন যাতে করে আপনার এই সময়টা ইনভেস্ট করতেছেন সেটার সঠিক রিটার্ন চলে আসে।

তবে প্রশিক্ষণ ফি নির্ধারণ এর আগে অবশ্যই আপনি চারপাশে দেখে নিবেন যে আপনারা যারা কম্পিটিটর রয়েছেন জারা এ ধরনের প্রশিক্ষণ দেয় তারা কত টাকা ফি নেয় এবং আপনার ফির সাথে সামঞ্জস্য হচ্ছে কিনা ।

%d bloggers like this: