কিভাবে এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করবেন।

কিভাবে এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করবেন

এফিলিয়েট মার্কেটিং A to Z.

আজকের পর্বে আমরা অলোচনা করব ১. এফিলিয়েট মার্কেটিং কি?? ২. কিভাবে এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করবেন। ৩. কিভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এফিলিয়েট মার্কেটিং কাজ দিয়ে থাকে। ৪. কয় ধরনের এফিলিয়েট মার্কেটিং রয়েছে। ৫. এফিলিয়েট মার্কেটিং এ কয় ধরনের পন্য থাকে?? ৬. এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আপনি কত টাকা উপার্জন করতে পারবেন। ৭. কোথায় এফিলিয়েট মার্কেটিং শিখবেন। ৮. কত টাকা ইনভেস্ট করতে হয়। চলুন শুরু করা যাক।

*১. এফিলিয়েট মার্কেটিং কি??

এফিলিয়েট মার্কেটিং হলো এমন এক ডিজিটাল মার্কেটিং ব্যবস্থা যেখানে কারো পন্য আপনি অন্য কারো কাছে বিক্রি করিয়ে দেওয়া বা বিক্রি করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা। এ ব্যবস্থায় বিক্রেতা তার পন্য বিক্রি করিয়ে দেওয়া কমিশন দেয় । এফিলিয়েট মার্কেটিং করে ঘরে বসে অপনি চাইলে লাখ লাখ টাকা উপার্জন করতে পারবেন। তবে সেটির জন্য প্রয়োজন দক্ষতা।

* ২. কিভাবে এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করবেন।
এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার প্রথমে আপনাকে ইংরেজিতে ভালো মানের দক্ষতা থাকা জরুরি। এর পর হলো অপনি যাদের পন্য নিয়ে কাজ করবেন তাদের পন্য কাস্টমার এর নিকট পৌঁছানোর জন্য থাকতে হবে ওয়েবসাইট বা ইউটিউব চ্যানেল বা ফেসবুক পেইজ। এগুলোর যে কোন একটির মাধ্যমে কাস্টমার নিয়ে আসা এবং যাদের এফিলিয়েট মার্কেটিং করছেন তাদের লিংকে নিয়ে যাওয়া এবং কাস্টমার সেখান থেকে পন্য কিনলে আপনি অটো কমিশন পেয়ে যাবেন। এছাড়া আপনাকে Google seo সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। মুটামুটি এ সকল বিষয়ে জানা থাকলে আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং করে ভালো পরিমাণ টাকা উপার্জন করতে পারবেন।

* ৩. কিভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এফিলিয়েট মার্কেটিং কাজ দিয়ে থাকে।

অনলাইনে যে সকল প্রতিষ্ঠান এফিলিয়েট মার্কেটিং এর কাজ দিয়ে থাকে তার আপনাকে প্রতিটি পন্যের জন্য একটি লিংক দিয়ে থাকে এবং যে কাস্টমার আপনার এ লিংক ব্যবহার করে পন্য ক্রয় করবে তাদের অটো সফটওয়্যার এর মধ্যমে হিসেব করে কমিশন দিয়ে থাকে। কোন প্রতিষ্ঠান সেটি সাপ্তাহিক দেয় আবার কোনটা মাসিক দিয়ে থাকে। তবে আপনি যে প্রতিষ্ঠানে এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে চান তাদের কাছে আবেদন করতে হবে এবং তাদের রুলস অনুযায়ী কাজ করতে হবে তাহলে তারা কমিশন দিবে।

*৪. কয় ধরনের এফিলিয়েট মার্কেটিং রয়েছে।

বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের এফিলিয়েট মার্কেটিং রয়েছে তবে তার মধ্যে pps বা pay per sale অন্যটি হলো cpa বা cost per action. এ নিয়ে নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

(*)pps বা pay per sale
পিপিএস কে রেভিনিউ শেয়ারিং বলা হয় । এ মডেল টা খুব সহজ এবং লাভবান এ মডেল আপনি যখন একটি সেল জেনারেট করে বিক্রি করিয়ে দিতে পারবেন তখন সেলার আপনাকে সাথে সাথে রেভিনিউ শেয়ারিং কমিশন দিয়ে থাকবে। তাই একে রেভিনিউ শেয়ারিং বলা হয়। বর্তমানে এটি খুব জনপ্রিয় এফিলিয়েট মার্কেটিং মডেল।

(*)cpa বা cost per action.
সিপিএ মার্কেটিং হল আপনাকে কোনো পণ্য বিক্রি করতে হবে না শুধু একশন জেনারেট করে দিতে হবে। যেমন কোন প্রতিষ্ঠান এর নিদিষ্ট কাস্টমারের ইমেল প্রয়োজন আপনি যদি ইমেইল সংগ্রহ করে দিতে পারেন তাহলে তারা আপনাকে কমিশন দিয়ে দিবে।

৫. এফিলিয়েট মার্কেটিং এ কয় ধরনের পন্য থাকে??
এফিলিয়েট মার্কেটিং তিন ধরনের হয়ে থাকে
১. ফিজিক্যাল পণ্য
২. ডিজিটাল পণ্য
৩.লিড জেনারেশন।

১. ফিজিক্যাল পণ্য।
ফিজিক্যাল পণ্য হল যে সকল পণ্য আমাদের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করা হয়। যেমন পোশাক, ফার্নিচার খাবার ইত্যাদি এ সকল ২% থেকে ২০% পর্যন্ত কমিশন পাওয়া যায়। অ্যামাজন এই সকল পণ্য ২% থেকে ১০% পর্যন্ত কমিশন দিয়ে থাকে। তবে শর্ত হলো ডেলিভারির পর কমিশন দিবে। এফিলিয়েট মার্কেটিং করার পূর্বে যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করবেন সেটি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে শুনে এ কাজ করবেন। তারা সঠিকভাবে ডেলিভারি দেয় কিনা সে বিষয়ে জেনে নিবেন।
২. ডিজিটাল পণ্য
ডিজিটাল পন্য হলো যার কোন ফিজিক্যাল অস্তিত্ব নেই। যেমন যে কোন সফটওয়্যার বিক্রি , ডিজিটাল যে কোন সেবা, হোস্টিং সার্ভিস, ডোমেন সার্ভিস, অনলাইন ক্লাস আরো ইত্যাদি। বর্তমানে যারা এফিলিয়েট মার্কেটিং করে থাকে তাদের কাছে এটি খুব জনপ্রিয়। খুব সহজে বিক্রি করা যায় এবং কমিশন ২% থেকে ৭০% পর্যন্ত হয়ে থাকে।

৩.লিড জেনারেশন।
লিড জেনারেশন করা হলো সিপিএ মার্কেটিং এর কাজ। আপনি কোন পন্য বিক্রি করতে হবে না যেমন কোন প্রতিষ্ঠান একটি এপ্স তৈরি করলো এবং অপনাকে বলল যে ১০০ জনের কাছে পৌচে দিতে এবং তারা ইন্সটল করলে তারা আপনাকে কমিশন দিবে প্রতি ইন্সটল এ।

৬. এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আপনি কত টাকা উপার্জন করতে পারবেন।

এবার আসি মুল কথায় এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আপনি কত টাকা উপার্জন করতে পারবেন। আমি বলব সেটি আপনারা দক্ষতা এবং কাজের উপর নির্ভর করে। একজন ভালো মানের এফিলিয়েট মার্কেটার প্রতি মাসে ১ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত টাকা উপার্জন করতে পারবেন। তবে আপনি যখন এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করবেন তখন ৬ মাস বা এক বছর ইনকাম আসতে না পারে। অপনাকে লেগে থাকতে হবে যখন টাকা আসা শুরু করবে তখন আসতে থাকবে এবং আপনি ধিরে ধিরে দক্ষতা বাড়তে থাকবে।
এফিলিয়েট মার্কেটিং এর কমিশন দুই ভাবে দিয়ে থাকে এক হলো পন্য বিক্রির পর যে কমিশন পাবেন সেটা আর আরেকটা হলো আপনি যে কাস্টমার এর কাছে পন্য বিক্রি করবেন তার কমিশন পাশাপাশি ঐ কাস্টমার যদি ঐ সাইট থেকে অন্য কোন পন্য ক্রয় করে তারও একটি কমিশন পাবেন।

৭. কোথায় এফিলিয়েট মার্কেটিং শিখবেন।

কোথায় এফিলিয়েট মার্কেটিং শিখবেন সেটা নির্ভর করে আপনার উপর। আপনি চাইলে ফ্রীতে ইউটিউব চ্যানেল এর ভিডিও দেখা বা কোন অটিকেল দেখে শিখতে পারেন। তবে এভাবে শিখতে গেলে সময় বেশি লাগতে পারে। তাই আপনি চাইলে পেড কোর্স করতে পারেন।

৮. কত টাকা ইনভেস্ট করতে হয়??
এটি নির্ভর করে আপনার উপর। আপনার যদি ভালো মানের ইউটিউব চ্যানেল থাকে বা ফেসবুক পেইজ থাকে যা খুব সহজে মানুষের কাছে পৌঁছে। এবং আপনি যদি কাস্টমার বাড়াতে চান তাহলে ফেসবুকে বুস্ট করা বা গুগলে এড দিতে পারেন যে পন্য নিয়ে আপনি কাজ কাজ করছেন সে পন্যের এতে কিছু টাকা খরচ হবে। আর আপনি যদি কারো কাছে গিয়ে শিখেন তাহলে সেখানে কিছু টাকা খরচ হবে।

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর কিছু ভুল ধারণা রয়েছে অনেকগুলো পন্য নিয়ে কাজ কাজ করা অন্যতম। আপনি যদি অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান এর অনেকগুলো পন্য নিয়ে কাজ করেন তাহলে কাস্টমার আপনার কথা বিশ্বাস করতে চাইবে না। তাই পরামর্শ থাকবে একটি পন্য নিয়ে কাজ করার জন্য। এবং এটা ধারণা না করা যে এফিলিয়েট মার্কেটিং করার সাথে সাথে হাজার হাজার টাকা উপার্জন করতে পারবেন এটি সবার ক্ষেত্রে নাও হতে পারে। তাই আপনি যদি এফিলিয়েট মার্কেটিং এর কাজ করা শুরু করেন তাহলে লেগে থাকুন ইনকাম একদিন আসবেই। এবং যারা ভালো মানের এফিলিয়েট মার্কেটার তাদের সাথে যোগাযোগ রাখুন। সফলতা একদিন আসবেই। আমাদের লেখাটি এই পর্যন্ত পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ আশা করি আপনি যদিএ ফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে চান তাহলে জেনে শুনে বুঝে এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করবেন।