ইবুক প্রকাশ করে কিভাবে আয় করা যায়?

ইবুক

বই মানুষের প্রকৃত বন্ধু। প্রাচীন কাল থেকেই জ্ঞান আহরণের জন্য মানুষ বই পড়ে আসছে। মানুষের বই পড়ার চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে। সেই সাথে বাড়ছে নতুন বইয়ের সংখ্যা। বড় হচ্ছে বইয়ের ইন্ডাস্ট্রি। বইয়ের ধরনের মধ্যেও হয়েছে বড় ধরনের বিবর্তন। একসময় মানুষ মাটিতে গাছের ডাল বা পাথর দিয়ে লেখত। তারপর পাথরের মধ্যে লিখত লেখার দীর্ঘ স্থায়িত্বের জন্য। তারপর চামড়ার মধ্যে লেখা আরম্ভ করল। এভাবে একসময় কাগজ আবিষ্কার হল। সেই থেকে কাগজের বই। বই তৈরির জন্য কাগজ ব্যবহার শুরু করলে বই উৎপাদন খরচ অনেকটা কমে আসে। তারপর সাধারন মানুষের মাঝে বই পড়ার প্রবনতা বেড়ে যায়।

এখন বইয়ের সীমাবদ্ধতা কাগজের মধ্যে আটকে নেই। এখন বইয়ের ডিজিটাল ভার্সন হল ইবুক। ইবুক এবং কাগজের বইয়ের বাজারের মধ্যে তুমুল প্রতিদন্দ্বিতা চলছে। অনেকেই মনে করেন যে খুব দ্রুতই কাগজের বই হারিয়ে যাবে। তবে সাধারন মানুষের মধ্যে বড় একটা অংশ ইবুককে কাগজের বইয়ের স্থান দিতে নারাজ। তাই ইবুকের বেড়ে উঠার পাশাপাশি কাগজের বইয়ের বাজারও পাল্লা দিয়ে বেড়ে উঠছে।

ইবুক কি? কিভাবে ইবুক লিখতে হয়? ইবুক প্রকাশ করে কিভাবে আয় করা যায়? ইবুক কোথায় পাবলিশ করবেন? একটা ইবুক পাবলিশ করতে কত টাকা খরচ হবে? ইবুক পাবলিশ করে কত টাকা আয় করা যাবে? কি কি বিষয়ে ইবুক পাবলিশ করা যায়? এসকল বিষয় নিয়েই আজ আমরা আলোচনা করব।

ইবুক কি?

ইবুক (Ebook) এর পূর্ণরূপ হল ইলেকট্রনিক বুক। এটি কাগজের বইয়ের ডিজিটাল রূপ। ইবুকে কিছু বাড়তি সুবিধা আছে। এই যেমন ধরুন ফন্ট বড় ছোট করতে পারা, বই পড়ার পাশাপাশি ব্যাকগ্রাউন্ডে অডিও শুনা যায়। ব্রাইটনেস বাড়ানো কমানো যায়। ইবুক এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল একসাথে অনেক বই একটি ডিভাইসে রাখা যায়। ছোট একটি মেমরিতে কয়েক হাজার বই একসাথে রাখা যায়। যখন যেটা ইচ্ছা সেটা পড়া যায়। এছাড়াও আরও নানা রকমের সুবিধা রয়েছে ইবুকে। সাধারন কম্পিউটার বা এন্ড্রয়েড মোবাইলে ইবুক পড়া গেলেও বর্তমানে ইবুকের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আলাদা ডিভাইস উৎপাদন করছে। এর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় হল আমাজনের তৈরি কিন্ডল (Kindle)। কিন্ডল ইবুক পড়ার জন্য জনপ্রিয় একটি ডিভাইস।  এর মাধ্যমে বই পড়ার পাশাপাশি পত্রিকা, ম্যাগাজিন, ব্লগ ইত্যাদি পড়া যায়। এমনকি ব্যাকগ্রাউন্ড অডিও শুনাও যায়। কিন্ডল এখন পর্যন্ত শুধু আমেরিকাতেই সীমাবদ্ধ আছে। খুব দ্রুতই এটি বিশ্বের অন্যান্য দেশে বিক্রি শুরু হয়ে যাবে।

ইবুক এর বিভিন্ন ধরনের ফরম্যাট রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ফরম্যাট হল পিডিএফ (PDF) । এর পূর্ণরূপ হল পোর্টেবল ডকুমেন্ট ফরম্যাট। এই ফরম্যাট এর বই যে কোনো এন্ড্রয়েড মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে খুব সহজেই পড়া যায়। ইবুকের অন্যান্য ফরম্যাটগুলো হল ODF, KF8, AZW ইত্যাদি।

কিভাবে ইবুক লিখতে হয়?

ইবুক লেখা অনেকটা কাগজের বই লেখার মতই। আগে বিষয় নির্বাচন করতে হবে। তারপর ওয়ার্ডে সেই অনুযায়ী টাইপ করে পিডিএফ ফরম্যাটে সেভ করলেই হয়ে গেলো। ক্যানভাতেও তৈরি করা যায়। যেখানেই তৈরি করেন না কেন নির্দিষ্ট ফরম্যাটে সেভ করলেই হয়ে যাবে।

ইবুক প্রকাশ করে কিভাবে আয় করা যায়?

ইবুক প্রকাশ করে সেগুলো বিক্রি করে সেখান থেকে টাকা আয় করতে পারবেন। ভাল বিষয় নিয়ে বই লিখে ভাল ভাবে মার্কেটিং করলে সেটা আপনি খুব সহজেই বিক্রি করতে পারবেন।

নিজের লেখা বই ছাড়াও অন্যের লেখা বই দিয়েও টাকা আয় করা যায়। এমন কোনো বই খুজে বের করবেন যেটার ইবুক ভার্সন এখনও বের হয় নি। তারপর সেই বইয়ের প্রকাশকের সাথে কথা বলে সেই বইয়ের ইবুক ভার্সন তৈরি করবেন। এর জন্য প্রকাশকের সাথে চুক্তি করে নিবেন। ওই ইবুক বিক্রি করে আপনি যত টাকা আয় করবেন তার ১০ থেকে ৩০% সে নিতে পারে। অবশ্য এই ভাগটা আপনাদের চুক্তির উপর নির্ভর করবে।

ইবুক কোথায় পাবলিশ করবেন?

ইবুক তৈরির পর পাবলিশ করার পালা। ইবুক পাবলিশের জন্য বিভিন্ন ওয়েবসাইট রয়েছে। এর মধ্যে জনপ্রিয় একটি সাইট হল Clickbank. তাছাড়া বিভিন্ন বেচাকিনির সাইটে আপনার ইবুকটি খুব সহজেই বিক্রি করতে পারেন।

আরও ভাল হয় আপনি যদি নিজে একটি ওয়েবসাইট খুলে সেখানে ইবুক বিক্রি করেন। তবে নিজে বিক্রি করার জন্য ভাল মানের একটি ওয়েবসাইট খুলতে আপনার ৫০০০ থেকে ১০০০০ টাকা খরচ হতে পারে।

বই পাবলিশ করার পর ফেসবুক ইন্সট্রাগ্রামে আপনাকে সরব থাকতে হবে। সেখানে আপনার বইটি প্রমোট করতে থাকবেন। ফেসবুক, ইন্সট্রাগ্রাম এবং ইউটিউবে বইটির বিজ্ঞাপন দিবেন। এর জন্য আপনার কিছু টাকা খরচ হলেও এর জন্য আপনার প্রচুর রেগুলার কাস্টমার তৈরি হবে। সাথে বই বিক্রি বাড়বে।

একটা ইবুক পাবলিশ করতে কত টাকা খরচ হবে?

আপনি যদি নিজে বই লেখেন এবং নিজের ওয়েবসাইটে বা ফেসবুক পেইজে বিক্রি করেন তাহলে ইবুক পাবলিশ করতে কোনো টাকা প্রয়োজন হবে না। আর যদি অন্য কাউকে দিয়ে অর্থাৎ Ghostwriter দিয়ে লেখান তাহলে আপনার আর ঐ লেখকের চুক্তি অনুযায়ী টাকা লাগবে। আর যদি অন্য কারও সাইটে ইবুক পাবলিশ করেন তাহলে তাদের নিয়ম অনুযায়ী টাকা দিতে হবে। তাই একটা ইবুক পাবলিশ করতে কত টাকা লাগতে পারে তা নির্দিষ্ট করা বলা সম্ভব নয়।

ইবুক পাবলিশ করে কত টাকা আয় করা যাবে?

ইবুক পাবলিশ করে কত টাকা আয় করা যাবে সেটা মূলত প্রটিতি ইবুকের দাম এবং কত পরিমান বই আপনি বিক্রি করবেন সেটার উপর নির্ভর করবে। ধরুন আপনার প্রকাশিত একটি ইবুকের দাম ১০০ টাকা এবং এক মাসে আপনি ৫০ টি বই বিক্রি করতে পারলেন। তাহলে ঐ ১ মাসে ঐ বই বিক্রি করে আপনি ৫০০০ টাকা পেলেন। ধরুন এতে আপনার খরচ ছিল ১০০০ টাকা। তাহলে শেষে আপনার লাভ থাকল ৪০০০ টাকা। এভাবে ধীরে ধীরে যখন আপনি বইয়ের সংখ্যা বাড়াবেন তখন আপনার আয় বাড়তে থাকবে।

কি কি বিষয়ে ইবুক পাবলিশ করা যায়?

ইবুক পাবলিশ করার জন্য বিষয় নির্বাচন গুরুত্বপূর্ন একটি বিষয়। আপনি কোন বিষয়ে ইবুক লিখবেন তার উপর নির্ভর করবে আপনার কাস্টমার কারা হবে? নিচে কয়েকটি বিষয় তুলে ধরলাম সেগুলোর উপর আপনি ইবুক লিখতে পারবেন…

১. ব্যবসা সম্পর্কিত

২. স্কিল ডেভেলপমেন্ট

৩. সাইন্স ফিকশন

৪. গল্প, উপন্যাস। একটি গভেষনা অনুযায়ী জানা গেছে গল্প উপন্যাসের বেশিরভাগ পাঠক ইবুক এর চাইতে কাগজের বই বেশি পছন্দ করে থাকেন।

৫. রান্নার জন্য রেসিপি

৬.পাঠ্য পুস্তক সম্পর্কিত

৭. ইংরেজি ভাষা শিক্ষা ইত্যাদি

এছাড়াও আরও অনেক বিষয় আছে যেগুলোর উপর আপনি ইবুক লিখতে পারেন। আপনি যেই বিষয়ে পারদর্শী সেই বিষয়ে ইবুক লিখবেন।

আজকের আলোচনা সম্পর্কে কোন মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন।

%d bloggers like this: